বিবিধ

শিক্ষা ক্যাডারে একীভূতকরণের বিরুদ্ধে রাবি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিক্ষোভ

  রাবি প্রতিনিধি: ১০ আগস্ট ২০২৫ , ৬:২৭ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সঙ্গে লোক প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগকে একীভূত করার প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এই মানববন্ধন হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজী ভবনের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে প্যারিস রোডে এসে মিলিত হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আজ এক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন, যেখানে তারা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাথে লোক প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ একীভূত করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানান।
শিক্ষার্থীরা বলেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও প্রশাসনিক কাঠামোতে একটি স্বতন্ত্র ও ঐতিহ্যবাহী শাখা, যার স্বাতন্ত্র্য কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ করা যাবে না। সাম্প্রতিক সময়ে বিভাগের একীভূতকরণের গুঞ্জন ও ষড়যন্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জুয়েল রানা জানান, “আমরা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ একটা স্বতন্ত্র ডিসিপ্লিন। এখানে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে লোকপ্রশাসন বা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের একীভূতকরণ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।”
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮তম ব্যাচের জাকিয়া সুলতানা আঁখি বলেন, “রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা কখনও এ ধরনের কিছু মেনে নিবে না। আমরা আমাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যহত রাখব।”
নাফিজ আহমদ বলেন, “এটা মুলত স্বজনপ্রীতির বহিঃপ্রকাশ। কারণ পিএসসি’র বর্তমান চেয়ারম্যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক। আমরা এই অযৌক্তিক অন্তর্ভুক্তির ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তিব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
মোঃ আবদুল বারিক জানান, “আমরা যে গুঞ্জন বা ষড়যন্ত্রের আভাস পাচ্ছি তা কখনও বাস্তবে রূপ নিতে দেব না। কারণ এটা অযৌক্তিক। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়টা একটা স্বতন্ত্র বিষয়। এটাকে অন্য বিষয়, বিশেষ করে লোকপ্রশাসন বা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাথে মার্জ করার যে গুঞ্জন বা ষড়যন্ত্রের আভাস আমরা পেয়েছি তার প্রতিবাদ জানিয়েই আজকের কর্মসূচি। আমরা আমাদের তিনদফা কর্মসূচি ঘোষণা করছি।
১. রাষ্ট্রবিজ্ঞানের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে হবে।
২. অন্য কোনো বিভাগের অনধিকার চর্চা মেনে নেওয়া হবে না।
৩. গুঞ্জন বা ষড়যন্ত্র যাই হোক না কেন, পিএসসি থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট ও লিখিত বিবৃতি দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যদি পিএসসি এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টাও করে তাহলে তাঁরা ভুল করবে। পিএসসি’র চেয়ারম্যানকে বলে দিতে চাই, এমন অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত আসলে প্রয়োজনে সারা দেশের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক হয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।”