সারাদেশ

রৌমারী-জামালপুর রেল যোগাযোগে এগোচ্ছে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা

  এইচ এম মেহেদী : ৬ জানুয়ারি ২০২৬ , ৮:২৬ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতীকি ছবি:
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে এক ধাপ এগোল রৌমারী–জামালপুর রেল যোগাযোগ। রৌমারী–জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচলের খবরে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলাসহ আশপাশের এলাকায় সর্বমহলে খুশির বন্যা বইছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের সিলমোহরকৃত একটি চিঠি প্রকাশের পর এলাকাজুড়ে আনন্দ ও আশার আবহ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত রবিবার চিঠিটি স্বাক্ষরিত হলেও তা প্রকাশ করা হয় আজ। চিঠিতে প্রতিভূ কর্মকর্তা ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শেখ শামছুর রহমান স্বাক্ষর করেন। এতে রৌমারীকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর জামালপুর থেকে শেরপুর হয়ে নাকুগাঁও পর্যন্ত নতুন সিঙ্গেল ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার পরিবর্তে শেরপুর ও রৌমারী রেলওয়ে কানেকটিভিটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রকল্পের কার্যপরিধি (TOR) অনুযায়ী প্রকল্পটির নাম ‘শেরপুর ও রৌমারী রেলওয়ে কানেকটিভিটির জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা’ হিসেবে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শেখ শামছুর রহমান।
এদিকে রৌমারী–জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচলের সম্ভাবনার খবরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রৌমারী উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ অবকাঠামোর দিক থেকে অবহেলিত। রেল যোগাযোগ চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবাসহ সার্বিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সহকারী অধ্যাপক তাহমিনা আকতার বলেন,“আমাদের ছোট ভাই বোনেরা যারা পড়াশোনার জন্য নিয়মিত জামালপুর ও ঢাকায় যাতায়াত করে, তাদের জন্য রৌমারী–জামালপুর রেল যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়কপথে যাতায়াতে সময় ও খরচ দুটোই বেশি। ট্রেন চলাচল শুরু হলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।”
সাংবাদিক আনিছুর রহমান বলেন,“রৌমারী একটি সীমান্তবর্তী ও যোগাযোগ-বঞ্চিত উপজেলা। রেললাইন স্থাপনের উদ্যোগ শুধু যোগাযোগ উন্নয়ন নয়, বরং এটি এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। দীর্ঘদিনের এই দাবির বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষ আশাবাদী।”
এ বিষয়ে যাদুরচর ইউনিয়ন তাতীদল সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন,“রেল যোগাযোগ রৌমারীর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। আমাদের কৃষক, ব্যবসায়ী এবং শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে। আশা করছি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনরা মনে করছেন, রৌমারী সীমান্তবর্তী ও নদীবেষ্টিত এলাকা হওয়ায় সড়ক যোগাযোগে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। রেললাইন স্থাপন হলে যোগাযোগ ব্যয় কমবে, সময় সাশ্রয় হবে এবং এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
তারা দ্রুত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সমীক্ষা শেষে ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়া গেলে রৌমারী–জামালপুর রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবে।