ইরিন জামান খান প্রান্তি,রাবি প্রতিনিধি: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৩:৫৬ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
বিপ্লবী শহীদ শরীফ উসমান হাদি হত্যার বিচার দাবি এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে হামলা, সাংবাদিক নির্যাতন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ভিপির বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) বেলা দুইটার দিকে বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে এ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে শহীদ উসমান হাদির মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।
বিবৃতিতে বলা হয়, উসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি গোষ্ঠী কল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেশের শীর্ষস্থানীয় দুইটি দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালিয়েছে। একইসঙ্গে সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী ও ছায়ানটেও হামলার ঘটনা ঘটে। এমনকি ফ্যাসিবিরোধী কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ-এর সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নুরুল কবিরের ওপরও হামলা করা হয়।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা মনে করেন, এসব হামলা জনগণের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। একইসঙ্গে এসব ঘটনা ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেতনা এবং শহীদ উসমান হাদির চিন্তা ও মতাদর্শের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। তাই এ ধরনের উগ্র ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তারা।
এছাড়াও বিবৃতিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর ) উসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং তা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, রাকসু ভিপি হিসেবে দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে দেওয়া তাঁর ওই বক্তব্য অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং দেশে চলমান উগ্রতাকে আরও উসকে দেয়।
ওই সমাবেশে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ এসব সুশীল পত্রিকা বন্ধ করতে হবে। এই কর্মসূচিতে যদি প্রথম আলো বা ডেইলি স্টারের কোনো প্রতিনিধি থাকে, তাহলে আপনারা বের হয়ে যান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশে বর্তমানে চলমান উগ্রতা, মব সন্ত্রাস, নৈরাজ্য এবং জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সহিংসতা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চরম ব্যর্থতার পরিচায়ক, যা গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষার্থীরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, এসব ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে।
উল্লেখ্য,গত ১২ ডিসেম্বর জুম্মাবাদ নির্বাচনী প্রচারণাকালে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ উসমান হাদিকে গুলি করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়সহ কয়েকটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটে।











