ইরিন জামান খান প্রান্তি,রাবি প্রতিনিধি: ১৫ অক্টোবর ২০২৫ , ৮:২৮ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চলেছে। রাতের অন্ধকার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাবির ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হবে নতুন এক অধ্যায়—রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন।
নানা জটিলতা ও সংশয় শেষে অবশেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাকসু নির্বাচন। এই নির্বাচনের সূচনা হয় ২৮ জুলাই ২০২৫ সালে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে।
রাকসু নির্বাচনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ৬ জন নির্বাচন কমিশনার এবং ১ জন প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। তাঁরা দিনরাত পরিশ্রম করে রাকসু নির্বাচনের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।
২৪ আগস্ট ২০২৫ থেকে শুরু হয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ। মোট ৮৮৪ জন মনোনয়নপত্র নেন। তবে বাতিল ও প্রত্যাহারের পর চূড়ান্তভাবে ৮৬০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচনী প্রচার শুরু হয় ১৫ সেপ্টেম্বর।
বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি, পরিবহন মার্কেট, বুদ্ধিজীবী চত্বর, শহীদ মিনার—প্রতিটি কোণায় প্রার্থীরা প্রচার চালান। ২৫ সেপ্টেম্বর নির্বাচনের প্রাক্কালে সজীব হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
তবে ১৮ সেপ্টেম্বর পোষ্য কোটাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী মুখোমুখি অবস্থান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মবিরতি ও শাটডাউনের কারণে নির্বাচনের পথ ক্রমেই সংকীর্ণ হতে থাকে। রাকসুর আকাশে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ জমে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচন পিছিয়ে ১৬ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বর্তমান পরিস্থিতি রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের উপযোগী নয়। শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনকে আরও উৎসবমুখর করতে সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যদিও ছাত্রশিবির চেয়েছিল ২৫ সেপ্টেম্বরেই নির্বাচন, অন্যদিকে ছাত্রদল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চেয়েছিল পূজার পর ভোট। দ্বিতীয় দফায় পূজার ছুটি শেষে ৫ অক্টোবর থেকে শুরু হয় পুনরায় প্রচার-প্রচারণা, যা শেষ হয় ১৪ অক্টোবর রাত ১২টায়।
নির্বাচনী প্রচারণায় ক্যাম্পাস পরিণত হয় উৎসবের মেলায়। একাডেমিক ভবন, টুকিটাকি চত্বর, পরিবহন মার্কেট, কলাভবন—সব জায়গায় প্রার্থীদের পদচারণা। ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস। কেউ লিফলেটে কার্টুন, ফুল, এমনকি গাজাবাসির প্রতি সংহতির বার্তাও যুক্ত করেছেন। কেউ গান, কেউ মেহেদি, কেউবা সাজপোশাকে অভিনবত্ব দেখিয়ে মুগ্ধ করেছেন সহপাঠীদের।
আজ বুধবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকেই ব্যস্ততা চোখে পড়ছে। দোরগোড়ায় রাকসু নির্বাচন—উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা ও আনন্দে চলছে শেষ মুহূর্তের তোড়জোড়। ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে পুলিশের সরব উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নির্বাচনের দিন ও আগের দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখেছে প্রশাসন।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিনেট ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এফ. নজরুল ইসলাম বলেন,“রাকসু নির্বাচন আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্যের প্রতীক। আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।”
তিনি আরও বলেন,“একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। প্রতিটি ধাপে নির্বাচনকে বিতর্কমুক্ত রাখতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”
আজ ১৫ অক্টোবর রাবি ক্যাম্পাস যেন এক উৎসবের মেলা। দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গানের সুরে মুখরিত পরিবেশ ছড়িয়ে দিচ্ছে ইতিবাচকতার বার্তা। শিক্ষার্থীদের একটাই প্রত্যাশা—এমনই আনন্দঘন পরিবেশে যেন অনুষ্ঠিত হয় রাকসু নির্বাচন।











