সদরুল আইন: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে আচরণবিধি সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক পাঠাবে বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তাদের বিদ্যমান সিসি ক্যামেরা সচল রাখার নির্দেশ দিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।
এছাড়া সরকারি-বেসরকারি সকল টেলিভিশন চ্যানেলে নির্বাচনি সংলাপ বা অন্য কোনো অনুষ্ঠান প্রচারের ক্ষেত্রে সকল প্রার্থী যাতে সমান সুযোগ পান এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া কোনো প্রার্থী সুযোগ না পান সে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
ইসির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, প্রার্থীদের কাছে অস্ত্র রাখার বিষয়ে আচরণবিধি সংশোধন করা লাগবে। কারণ নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো প্রার্থীর বৈধভাবে অস্ত্র রাখার সুযোগ নাই। এজন্য সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের অস্ত্র রাখার বিষয়ে প্রয়োজনে আচরণবিধি সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ।
বুধবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম (অব.) চৌধুরী সম্প্রতি বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থীরা ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স চাইলে অনুমতি দেওয়া হবে। যারা অস্ত্র জমা দিয়েছেন তাদের অস্ত্রও ফেরত দেওয়া হবে। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে একটি নীতিমালাও জারি করা হয়।
ইসি সচিব বলেন, ‘আমরা সবাই নিশ্চয়ই একমত যে নিরাপত্তার বিষয়টা প্রাধান্য পাক। আর এর সঙ্গে আচরণবিধির আপাতত কোনো বিরোধ দেখছি না। যদি মনে করা হয় ওভার দ্য পিরিয়ড অব টাইম আচরণবিধির কোনো জায়গায় সামান্য সংযোজন বা বিয়োজন লাগবে সেটা করব আমরা।’
ভোটের আগে বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়ার বিধির কথা তুলে ধরলে ইসি সচিব বলেন, বৈধ অস্ত্র জমা নেওয়ার বিষয়টা যখন প্রাসঙ্গিক হবে তখন যদি মনে করা হয় যে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টা বিবেচনা নেওয়া প্রয়োজন, তখন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্বাচনে প্রায় ২০০ পর্যবেক্ষক পাঠাবে ইইউ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে প্রায় ২০০ জন পর্যবেক্ষক পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গতকাল বুধবার নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এই প্রতিনিধিদলের প্রধান ইইউ পার্লামেন্ট সদস্য আইভার্স ইজাপস। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সিসি ক্যামেরা চালু রাখার নির্দেশ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে তাদের বিদ্যমান সিসি ক্যামেরা সচল রাখার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগকে ইতিমধ্যেই নির্দেশনাটি পাঠিয়েছেন ইসির উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের তারিখের পূর্বেই ভোটকেন্দ্র ভোটারের চলাচল উপযোগী করতে হবে এবং অবকাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। যেসব কেন্দ্রে বিদ্যুত্ নেই, সেখানে বিদ্যুত্ সংযোগ দিতে হবে। ভোটকেন্দ্রে বিদ্যমান সিসিটিভি সংযোগ সচল রাখতে হবে।
যেসব কেন্দ্রে সিসিটিভি সংযোগ নেই, সেসব কেন্দ্রের পরিচালনা পর্ষদ বা কর্তৃপক্ষকে অন্তত ভোটের দিনের জন্য সিসিটিভি সংযোগের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ করা হবে। এছাড়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারদেরকে ব্যক্তিগতভাবে ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করতে হবে।
প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও গর্ভবতী নারীদের ভোটের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে, বিশেষ করে সাইক্লোন সেন্টারে।
‘ডামি’ প্রার্থীরা যেন ভোটে আসতে না পারে, ইসিকে বৈষম্যবিরোধীরা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা সুযোগ না পান সে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এজন্য তারা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) লিগ্যাল নোটিশও দিয়েছে।
গতকাল বুধবার নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাতে এমন দাবি জানিয়েছে জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সংগঠনটি। সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশীদ বলেন, ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে যারা প্রার্থী হয়েছিলেন তারা যেন প্রার্থী হতে না পারেন সেজন্য আমরা লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছি।
নির্বাচন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের জীবন সংকটে। পলাতকরা বিদেশের মাটিতে বসে হত্যার নীলনকশা করছে। তিনি বলেন, পলাতক ফ্যাসিস্টের ষড়যন্ত্রের জবাবে হার্ডলাইনে যাবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইমরান বলেন, ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনের প্রার্থীরা জুলাই আন্দোলনে গণহত্যাকে সাপোর্ট করেছেন। কাজেই তাদের যেন ২০২৬ সালের নির্বাচনে সুযোগ দেওয়া না হয় সেজন্য আমরা লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছি।
প্রচারে সকল টিভিতে সব প্রার্থীকে সমান সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারে সকল প্রার্থীকে সমান সুযোগ দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল বুধবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনাটি পাঠিয়েছেন ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সাক্ষাত্কার, টকশো বা নির্বাচনি সংলাপ পরিবেশনের সময় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর প্রতি সমান সুযোগ প্রদানের বিষয়টি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ২৫-এ উল্লেখ রয়েছে, ‘গণমাধ্যমে নির্বাচনি সংলাপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থী বা দলের প্রতিনিধি টেলিভিশন চ্যানেল কর্তৃক আয়োজিত নির্বাচনি সংলাপে অংশ নিতে পারবেন, তবে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করে কোন বক্তব্য প্রদান করতে পারবেন না।
এ বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি সকল টেলিভিশন চ্যানেলে নির্বাচনি সংলাপ বা অন্য কোন অনুষ্ঠান প্রচারের ক্ষেত্রে সকল প্রার্থী যাতে সমান সুযোগ পান এবং কোনো দল বা প্রার্থীকে হেয় প্রতিপন্ন করে কোনো বক্তব্য বা কটূক্তি প্রচার করা না হয়, সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হলো।’
পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন ছাড়াল ৪ লাখ ৫৭ হাজার: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন ছাড়াল ৪ লাখ ৫৭ হাজার। গতকাল বুধবার পর্যন্ত ইসির ওয়েব সাইট থেকে এ সংখ্যা জানা গেছে।
গত ১৯ নভেম্বর থেকে এ কার্যক্রমের নিবন্ধন শুরু হয়েছে এবং আগামী ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকবে। ইসি জানিয়েছে, অ্যাপে নিবন্ধনকারীদের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ভোটার ভোট দিয়ে ফিরতি খামে তা আবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাবেন।











