শিক্ষা

পোষ্যকোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

  ইরিন জামান খান প্রান্তি,রাবি প্রতিনিধি: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১০:৩৪ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পুনরায় পোষ্য কোটা চালু করার প্রতিবাদে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি করছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে দলে দলে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হতে থাকে ছাত্রদল,ছাত্র শিবিরসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

রাকসু নির্বাচনের মুখোমুখি সময়ে বাতিল হওয়া এই কোটা পুনরায় চালু হওয়ার ব্যাপারটিকে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই রাকসু বানচাল কারা চক্রান্তের অংশ বলে মনে করছেন।

এই অবস্থান কর্মসূচিতে ছাত্রদল মনোনীত জিএস পদপ্রার্থী নাফিউল জীবন সাংবাদিকদের জানান,” অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে এই পোষ্য কোটা বাতিল করতে হবে,যদি আজকের মধ্যে বাতিল না করা হয় তবে, আগামীকাল সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই আন্দোলন আরো বেগবান করা হবে।”

উল্লেখ্য,শিক্ষার্থীরা বৃষ্টিতেও ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, পোষ্য কোটা কবর দে’ স্লোগান দিতে থাকে।

রাবি শাখা ছাত্র শিবিরের সভাপতি এবং আসন্ন রাকসু নির্বাচনের ভিপি (সহ- সভাপতি) পদপ্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “ক্যাম্পাসের রাকসু বানচালকারী খুবই সক্রিয়। যখন তারা দেখছে রাকসু নির্বাচন হয়েই যাচ্ছে তখন তারা একটি সম্পূর্ণ মীমাংসিত ইস্যুকে সামনে নিয়ে আসছে যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা- কর্মচারী ত্রিমুখী অবস্থান করছে।এছাড়াও তিনি সকলকে সাবধান থাকার আহ্বান জানান, পোষ্য কোটা পুনরায় ফিরিয়ে না আনার সাথে ২৫ সেপ্টেম্বরই রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার দাবি জানান।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাবি সাবেক সমন্বয় ফাহিম রেজা জানান -“ প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা’ বা অন্য যে নামেই পোষ্য কোটাকে ডাকা হোক না কেন তা পোষ্য কোটা।”

এর আগে, ( ১৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ভর্তি কমিটির সভায় পোষ্য কোটা পুনঃবহাল কারার সিন্ধান্ত নেয়া হয়।গত ১৭ সেপ্টেম্বর পোষ্য কোটা পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এ‌ক‌াংশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় ১৮- ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পোষ্য কোটা পুনরায় চালু না করলে পূর্ণ কর্মবিরতিতে যাবেন তারা । তার‌ই প্রেক্ষিতে আজ সিনেট ভবনে ভর্তি কমিটি ভর্তি পরীক্ষায় ‘প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা’ নামে পুনরায় এই কোটা বহালের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পোষ্য কোটা বহালের প্রশ্নে সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, “এটা মনে হচ্ছে রাকসু বানচালের ষড়যন্ত্র। শহীদের রক্তের উপরে দাঁড়িয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেউ কোনো অন্যায্য সুবিধা ভোগ করতে পারবে না।”

প্রসঙ্গত, জুলাই আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুরোপুরি পোষ্য কোটা বাতিল করা হয়। জানুয়ারির ২ তারিখে সকাল ১০ টায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীদের প্রবল আন্দোলনের মুখে সেইদিনই রাত ৯ টায় পোষ্য কোটা বাতিল করা হয়।