রাবি প্রতিনিধি: ৮ অক্টোবর ২০২৫ , ৭:২৬ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
শারদীয় দূর্গোৎসবের ছুটি শেষে আবারো শুরু হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা। গত ৫ অক্টোবর থেকে ক্যাম্পাস খোলার পর শুরু হয় প্রচার কার্যক্রম; আজ বুধবার (৮ অক্টোবর) চলছে চতুর্থ দিনের প্রচারণা।এতে ক্যাম্পাসে এক উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, টুকিটাকি চত্বর, পরিবহন মার্কেট ও কলাভবনসহ যেখানেই শিক্ষার্থীদের পদচারণা সেখানেই প্রার্থীরা ছুটছেন লিফলেট নিয়ে। ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস।
রাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ১৪ সেপ্টেম্বর (রবিবার) তারিখ থেকে শুরু হয় নির্বাচনি প্রচার – প্রচারণা। হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষ্যে রাকসু নির্বাচনের দিন ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে পিছিয়ে ১৬ অক্টোবর করা হয়; গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানান নির্বাচন কমিশন।
ইতোমধ্যে ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা, প্রার্থীরাও সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের’ ভিপি (সহ -সভাপতি) পদপ্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ গণমাধ্যমকে জানান – নির্বাচনী আচারণবিধি লঙ্ঘনের ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যেকার পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন খতিয়ে দেখবে এবং ব্যবস্থা নিবে।
তিনি আরও বলেন, যদি আবারো কেউ পোষ্য কোটা বা অন্য কোনোভাবে নির্বাচন পেছানোর বা বানচালের চেষ্টা করে, তবে আমরা মনে করবো – তারা শিক্ষার্থীদের পালস্ বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে এবং রাকসু নিয়ে শিক্ষার্থীদের যে আশা আকাঙ্খা রয়েছে তা শিক্ষার্থীদেরই পূরণে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান।
আসন্ন রাকসুকে কেন্দ্র করে পূজা পরবর্তী সময়ে নির্বাচন আমেজ নিয়ে শিক্ষার্থীরা জানান – পূজার পর নির্বাচনের আমেজে কিছুটা ভাটা পড়েছ।
আবার কেউ কেউ ইতিবাচক দিকও
দেখছে;লোকপ্রশাসন বিভাগের ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইকরা আক্তার জানান – সবে ক্যাম্পাস খুলছে,সব ডিপার্টমেন্ট ক্লাস ভালোভাবে চালু হয় নাই তবুও প্রার্থীরা যথাসম্ভব ভলো প্রচার করছে; সে দিক বিবেচনায় আমি মনে করি রাকসু প্রচারণা অনেক ভালো একাট জায়গায় আছে।
তিনি আরোও জানান – এই মুহূর্তে রাকসু পেছানোর কোনো কারণ দেখছি না। আর গতবার নির্বাচনের দিন পেছানোর কিছু উপযুক্ত কারণ ছিল এখন তেমন কিছু নেই; যদি না আাবারে কোনো সংকট দেখা দেয়।
এছাড়াও প্রার্থীদের কমিউনিকেশন গ্যাপ ও ভোটারদের প্রার্থীদের কাছে তাদের কাজ সম্পর্কে প্রশ্ন না করার প্রবণতার কথাও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও এখন শিক্ষার্থীরা ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করছেন।এই নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মাঝে রয়েছে নানান ধরনের প্রত্যাশা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, আবাসিক সংকট নিরসন,মেয়েদের জন্য ক্যাম্পাসে মেডিসিন কর্ণারের ব্যবস্থা, নারী শিক্ষার্থীদের হলের সামনে অবস্থিত বাজারে পণ্যের দাম নির্ধারণম এবং মতভেদ থাকবেই তবে পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখেই বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতির চর্চা করা উচিত।
ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাডিস বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব বলেন-“পূজার পর নির্বাচনী প্রচারণায় ভাটা পড়েছে,আশা করা যায় আগামী শনিবার রবিবার নাগাদ প্রচার প্রচারণার পরিবেশ আরো জমজমাট হবে।”
তিনি ক্লাস পর্যায়ে নির্বাচনী প্রচারণা না নিয়ে আসার বিষয়টাকে সাদুবাদ জানান। কোনো নির্দিষ্ট প্যানেল বা দল নয় বরং যোগ্যতা, নেতৃত্ব প্রদানের সক্ষমতা, জটিল মূহুর্তে সিচুয়েশন হ্যান্ডেল কারার ক্ষমতা ইত্যাদির ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নীলিমা জানান, ক্যাম্পাসে নির্বাচনের একটা আমেজ চলছে , আমরা শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে রাকসু নির্বাচন চাই এবং বিজয়ী প্রার্থীরা যেন নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নিজ ইশতেহারে আটল থাকে সেই প্রত্যাশা করি।
উল্লেখ্য, রাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত ২২ সেপ্টেম্বর উত্তাল হয়ে ওঠে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়(রাবি)। ছাত্রদল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দাবি ছিল পূজার ছুটির পর রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। অন্যদিকে ছাত্রশিবির চেয়ছিল নির্ধারিত সময়ে(২৫ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন।
এ নিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাকসু কোষাধ্যক্ষ ভবনে সামনে সামনে দুই পক্ষের মুখোমুখি স্লোগানে উত্তাল হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
আন্দোলনের মুখে এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশন ২২ সেপ্টেম্বর রাতে রাকসু নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করে আগামী ১৬ অক্টোবর।











