শিক্ষা

দীর্ঘ ৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হলো রাবির দ্বাদশ সমাবর্তন

  ইরিন জামান খান প্রান্তি,রাবি প্রতিনিধি: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ , ২:০৭ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

দীর্ঘ পাঁচ বছর পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দ্বাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নানান আলোকসজ্জা ও আলপনার রঙে রঙিন হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। সাবেক শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাজুয়েট হওয়ার আনন্দঘন পদচারণায় মুখরিত ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাবি স্টেডিয়ামে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সকালে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর পবিত্র কোরআন শরিফ ও গীতা পাঠ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আববার। সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. এ ফয়েজ।

উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বপ্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৩ সালে এবং সর্বশেষ একাদশ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালের ৩০ নভেম্বর। এবার ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত হলো দ্বাদশ সমাবর্তন। এ বছর মোট ৫ হাজার ৯৬৯ জন শিক্ষার্থীকে গ্রাজুয়েট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

সমাবর্তনের স্বাগত বক্তব্যে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মঈনুদ্দিন খান বলেন,
“প্রতিটি গ্রাজুয়েট এক একটি গল্প। প্রায় ছয় হাজার গল্পের একটি সুখকর পরিসমাপ্তি আজ ঘটছে, যা নতুন অধ্যায়ের সূচনা।”

তিনি গ্রাজুয়েটদের পিতামাতার ত্যাগ, ভালোবাসা ও ধৈর্যের কথা স্মরণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষকদের অবদানও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। সততা, ন্যায়বোধ ও মানবিকতাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল নীতি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

সমাবর্তনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আববার বলেন,
“বিশ্ববিদ্যালয় জনসাধারণের আমানত। জ্ঞান কেবল ব্যক্তিস্বার্থে নয়, বরং জনকল্যাণে ব্যবহৃত হওয়া উচিত। এই সমাবর্তন কেবল শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি নয়, এটি বৃহত্তর দায়িত্বের শুরু।”

রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে বলেন,
“নানা প্রতিকূলতা ও হতাশার মধ্যেও আপনারা হাল ছাড়েননি। এই অধ্যবসায়ই আপনাদের অন্যতম বড় অর্জন।”

তিনি আরও বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও সামাজিক রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নীতিবান নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী চিন্তা ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

সমাবর্তন বক্তা অধ্যাপক ড. এস. এম. এ ফয়েজ বলেন,
“ওয়ার্ল্ড ক্লাস সিটিজেন হতে হলে পরিবর্তনের সূচনা নিজ থেকেই করতে হবে।”
তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মানবোধ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সমাবর্তনে অংশ নেওয়া এক সাবেক শিক্ষার্থী বলেন,
“অনুষ্ঠান আয়োজন আরও সুচারু হতে পারত। তবে বহু বছর পর ক্যাম্পাসে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাজুয়েট হওয়া ও পুরোনো সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আনন্দ সত্যিই আলাদা।”