রাজনৈতিক ডেস্ক : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
নির্বাচনে পরাজয়ের পরও রাজনীতির ময়দানে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিতে ছায়া মন্ত্রীসভা (Shadow Cabinet) গঠনের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির শিশির মনির এই ঘোষণা দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি সাংগঠনিক পরিবর্তন নয়, বরং জামায়াতের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা প্রকাশের কৌশল।
যদিও নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন শিশির মনির, তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনিই হবেন সংসদে বিরোধী দলের অন্যতম মুখপাত্র। পাশাপাশি উচ্চকক্ষে তার প্রতিনিধিত্ব প্রায় নিশ্চিত বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
ছায়া মন্ত্রীসভা কী?
ছায়া মন্ত্রীসভা এমন একটি কাঠামো, যেখানে সরকারে থাকা প্রতিটি মন্ত্রীর বিপরীতে বিরোধী দল থেকে একজন করে ‘ছায়া মন্ত্রী’ দায়িত্ব পালন করেন।
এই ধারণা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যসহ উন্নত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোতে প্রচলিত।
ছায়া মন্ত্রীদের কাজ—
সরকারের মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ
দুর্নীতি ও অনিয়ম চিহ্নিত করা
বিকল্প নীতিমালা ও বাজেট প্রস্তাব করা
জনগণের সামনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা
জামায়াতের ছায়া মন্ত্রীসভা: কীভাবে কাজ করবে
জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, অর্থ, শিক্ষা, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্রসহ সব মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে ছায়া মন্ত্রী থাকবে। তারা নিয়মিত রিপোর্ট প্রকাশ করবে, প্রেস ব্রিফিং দেবে এবং সামাজিক মাধ্যমে জনগণের কাছে সরকারের কর্মকাণ্ডের বিকল্প বিশ্লেষণ তুলে ধরবে।
উদাহরণ হিসেবে—
সরকার বাজেট ঘোষণা করলে জামায়াতের ছায়া অর্থ মন্ত্রণালয় বিকল্প বাজেট দেবে।
কোনো প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় দেখালে, ছায়া মন্ত্রণালয় কম ব্যয়ে বিকল্প বাস্তবায়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে।
আন্তর্জাতিক চুক্তিতে ছায়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের স্বার্থ সংরক্ষণের বিকল্প পথ তুলে ধরবে।
ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের প্রস্তুতি
জামায়াত সূত্র জানায়, ছায়া মন্ত্রীসভায় যাদের রাখা হবে, ভবিষ্যতে দল ক্ষমতায় এলে তারাই প্রকৃত মন্ত্রিসভার নেতৃত্ব দেবেন। অর্থাৎ, এই ছায়া মন্ত্রীসভা হবে সম্ভাব্য সরকার গঠনের প্রস্তুতিমূলক কাঠামো।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে জামায়াত নিজেকে একটি বিকল্প সরকার হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে। এতে দলটির রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে এবং তরুণ ভোটারদের কাছে নতুন ভাবমূর্তি তৈরি হবে।
জনগণের সামনে জবাবদিহি
জামায়াতের ভাষ্য অনুযায়ী, ছায়া মন্ত্রীসভা কেবল সমালোচনার রাজনীতি নয়; বরং সমাধানমুখী রাজনীতির পথ খুলে দেবে। সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে জনগণকে তুলনামূলক মূল্যায়নের সুযোগ দেবে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের পরপরই এ ধরনের কাঠামো ঘোষণা করা প্রমাণ করে—জামায়াত এখন আর শুধু বিরোধী দল নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার বিকল্প মডেল হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চায়।











