চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ৯ মার্চ ২০২৬ , ৩:১২ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের দেয়াল ধসে এক শিশু আহত হয়েছে। উদ্বোধনের মাত্র তিন মাসের মাথায় এমন ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বজরা দিয়ারখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের একটি দেয়াল ধসে পড়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিশু জান্নাতি আক্তার (৯)। তিনি উপজেলার রমনা ঘাট এলাকার শাহাজাহান আলীর মেয়ে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রায়ই শিশুরা খেলাধুলা করে। ঘটনার সময় জান্নাতি ও তার ছোট বোন স্কুলে বসে ছিল। হঠাৎ ভবনের একটি দেয়াল ধসে তাদের ওপর পড়ে। এতে জান্নাতির মাথা ফেটে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে দ্রুত চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে তার মাথায় সাতটি সেলাই দেওয়া হয়।
সদ্য নির্মিত ভবনের দেয়াল ধসে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, “অবকাঠামোগত দক্ষতা উন্নয়ন ও তথ্যের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধি (প্রভাতী)” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চিলমারী উপজেলার বজরা দিয়ারখাতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নবনির্মিত ৩ তলা বিশিষ্ট বিদ্যালয় ভবন কাম-ফ্লাড শেল্টার নির্মাণ করা হয়। ভবনটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৩ কোটি ৪ লাখ ১৬ হাজার ১৭৬ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), কুড়িগ্রাম।
গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক ভবনটির উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের তিন মাসের মধ্যেই দেয়াল ধসে পড়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক বলেন, “বিষয়টি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার আলী জানান, “ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”





