চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ৯ অক্টোবর ২০২৫ , ৪:৩০ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অবহেলায় নির্মাণাধীন নদী বন্দরের একটি অরক্ষিত চৌবাচ্চায় পড়ে তিন বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে চিলমারী নদী বন্দরের উত্তর প্রান্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুর নাম শামিম মিয়া (৩), সে রমনা মডেল ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া এলাকার মৎস্যজীবী মমিনুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,নদী বন্দরের নির্মাণাধীন এলাকায় লোহার তৈরি একটি অকেজো চৌবাচ্চা দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। এতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ফুট গভীর পানি জমে ছিল। বৃহস্পতিবার সকালে মা রোজিনা বেগম কাপড় কাচতে গেলে পাশে খেলা করছিল ছোট ছেলে শামিম। এক পর্যায়ে সে অসাবধানতাবশত চৌবাচ্চার পানিতে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর বড় ভাই সোহেল মিয়া পানির নিচে শামিমের গেঞ্জি দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী বন্দর এলাকার অরক্ষিত এই চৌবাচ্চা নিয়ে তারা আগেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার সতর্ক করেছিলেন। এর আগেও একই চৌবাচ্চায় দুইটি শিশু পড়ে গেলেও সেসময় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছিল।
নিহতের পিতা মমিনুল ইসলাম জানান, “ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স্যার আমাদের অফিসে ডেকেছেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার বিকেলে বসার আশ্বাস দিয়েছেন।”
স্থানীয় ছাত্র প্রতিনিধি রেজাউল করিম বলেন, “বিআইডব্লিউটিএ ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই আজ একটি শিশুর প্রাণ গেছে। এলাকাবাসী বারবার সতর্ক করলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।”
চিলমারী নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্রের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
চিলমারী নৌ বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) ইমতিয়াজ কবির জানান, “শিশুর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রমনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম আশেক আকা শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে।”
ঘটনাটি দুঃখজনক উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক বলেন, “বিআইডব্লিউটিএর কার্যক্রমের ত্রুটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।





