রাজনীতি

গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে দুর্গম চরাঞ্চলে তরুণদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

  কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ৯:১১ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলার প্রত্যন্ত ও দুর্গম চরাঞ্চলে গণভোট সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন একদল তরুণ। দুর্গম চর, কাঁচা রাস্তা ও যোগাযোগব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করে তারা গ্রাম থেকে গ্রামে, কৃষকের মাঠে, শ্রমিকের কর্মস্থলে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় গিয়ে গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরছেন।
প্রচারণাকালে তরুণরা সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় সাধারণ মানুষকে বোঝাচ্ছেন—গণভোট কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে নিজের মতামত প্রকাশ করতে পারেন। তারা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছেন, এই উদ্যোগ কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর পক্ষে নয়; বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের পথ নির্ধারণে মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য। পোস্টার, লিফলেট বিতরণ ও সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এই প্রচারণার অন্যতম উদ্যোক্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, চরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে অনেকটাই দূরে রয়েছে। গণভোট সেই দূরত্ব কমানোর একটি কার্যকর মাধ্যম। তিনি বলেন,
“এই ভোট কোনো দল বা ব্যক্তির জন্য নয়। এটি আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কেমন হবে—সে বিষয়ে জনগণের সরাসরি মত প্রকাশের সুযোগ। চরাঞ্চলের মানুষের একটি ভোটও সমান মূল্যবান—এই বার্তাই আমরা পৌঁছে দিতে চাই।”
অপর উদ্যোক্তা রবিউল ইসলাম জানান, গণভোট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার অভাবে অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না। তাই শহরকেন্দ্রিক প্রচারণার পরিবর্তে মানুষের কাছে গিয়ে সরাসরি বোঝানোই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। তিনি বলেন,
“কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের সঙ্গে বসে কথা বললে তারা খুব দ্রুত বিষয়টি বুঝতে পারেন। যখন তারা জানতে পারেন ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে একটি নতুন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের পথে সম্মতি—তখন তাদের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ তৈরি হয়।”
আরেক উদ্যোক্তা সুজন মাহমুদ বলেন, এই উদ্যোগ তরুণদের হলেও এর লক্ষ্য সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে যুক্ত করা। তিনি জানান, হেঁটে, ভ্যানে ও মোটরসাইকেলে করে তারা দুর্গম চরাঞ্চলে গিয়ে এই প্রচারণা চালাচ্ছেন।
“আমরা চাই মানুষ ভয় বা দ্বিধা ছাড়াই নিজের মত প্রকাশ করুক। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জনগণের অধিকার ও শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ানোই আমাদের মূল উদ্দেশ্য,” বলেন তিনি।
প্রচারণাকালে বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের মধ্যেও গণভোট নিয়ে আগ্রহ ও প্রত্যাশার কথা উঠে আসে। চর রাজিবপুরের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন,
“আমরা মাঠে কাজ করি, বড় সিদ্ধান্তের কথা অনেক সময় বুঝি না। এই তরুণরা এসে সহজ করে গণভোটের বিষয়টি বুঝিয়েছে। এখন মনে হচ্ছে, আমার একটি ভোটও দেশের জন্য দরকার।”
একই এলাকার দিনমজুর রফিকুল ইসলাম বলেন,
“এটা কোনো দলের ভোট না—এই কথাটাই আমাদের ভালো লেগেছে। যদি এতে আমাদের ভবিষ্যৎ ভালো হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব।”
এছাড়া স্থানীয় নৌকার মাঝি মজনু মিয়া জানান, চরাঞ্চলের মানুষ প্রায়ই মূলধারার আলোচনা থেকে বাদ পড়ে যায়।
“গণভোট সম্পর্কে আগে তেমন জানতাম না। এখন বুঝতে পারছি, এতে অংশ নিলে আমাদের কথাও রাষ্ট্রের কাছে পৌঁছাবে,” বলেন তিনি।
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য ও সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—চর রাজিবপুরের প্রত্যন্ত এলাকায় এই প্রচারণা কেবল একটি ভোটের আহ্বান নয়; বরং গণভোটের মাধ্যমে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করার একটি সচেতনতা আন্দোলন। আয়োজকদের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে চরাঞ্চলের মানুষ গণভোটের গুরুত্ব অনুধাবন করে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে নিজেদের মতামত স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন।