ডেস্ক রিপোর্ট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ , ৪:৪৯ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
আসন্ন গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট জিতলে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ তুলে দেওয়া হবে—এ ধরনের একটি দাবি সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ও বিভিন্ন মাহফিলে ছড়িয়ে পড়ে। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে এ দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে।
সম্প্রতি এক মাহফিলে মুফতী এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী দাবি করেন, গণভোটে হ্যাঁ ভোট জিতলে সংবিধান থেকে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস তুলে দেওয়া হবে। এরপর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এ প্রেক্ষিতে রিউমর স্ক্যানার টিম গণভোটের প্রস্তাব, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি পর্যালোচনা করে। অনুসন্ধানে দেখা যায়—গণভোটে ‘বিসমিল্লাহ’ অপসারণ বা আল্লাহর প্রতি আস্থা বাদ দেওয়ার কোনো প্রস্তাবই নেই।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে থাকা বর্তমান সংবিধান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সংবিধানের প্রস্তাবনার শুরুতেই লেখা আছে—
“বিস্মিল্লাহির-রহ্মানির রহিম (দয়াময়, পরম দয়ালু, আল্লাহের নামে)”।
অর্থাৎ সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ সরানোর কোনো উদ্যোগ বা প্রস্তাব নেই।
ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান সামরিক আদেশের মাধ্যমে সংবিধানের ৮ অনুচ্ছেদে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ যুক্ত করেছিলেন। পরে ১৯৭৯ সালের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এটি বৈধতা পায়। তবে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকার এই ধারাটি বাদ দিয়ে আবার ধর্মনিরপেক্ষতা পুনর্বহাল করে। ফলে বর্তমানে সংবিধানের মূলনীতিতে ‘আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ নেই—তাই গণভোটে তা বাদ দেওয়ার প্রশ্নও অপ্রাসঙ্গিক।
গণভোটের প্রশ্নপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এতে শুধু “জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫” এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোর প্রতি সম্মতি চাওয়া হয়েছে। কোথাও বিসমিল্লাহ অপসারণ বা ধর্মীয় বিশ্বাস বাদ দেওয়ার কথা উল্লেখ নেই।
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—
তবে সেখানে বিসমিল্লাহ অপসারণের কোনো প্রস্তাব নেই। বরং সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ১০১ নম্বর পৃষ্ঠায় স্পষ্টভাবে সুপারিশ করা হয়েছে যে, সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ অবশ্যই থাকবে।
সাংবাদিক রাজীব আহামদও ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট করেছেন যে, বিসমিল্লাহতে কোনো পরিবর্তন আসছে না এবং গণভোটের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে কোনো দল যদি নির্বাচনে জিতে তাদের ইশতেহারে আল্লাহর প্রতি আস্থা পুনর্বহালের কথা উল্লেখ করে, তখনই কেবল সংসদে বিষয়টি বিবেচিত হতে পারে—এটি গণভোটের বিষয় নয়।
এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার রিউমর স্ক্যানারকে জানিয়েছেন—
“এটি একেবারেই ভুয়া খবর।”





