অনলাইন ডেস্ক : ১ মার্চ ২০২৬ , ১০:৪৭ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
সারা দেশের ৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ পরিদর্শন ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। প্রকাশিত তালিকায় কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলার ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। রোববার (১ মার্চ) অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর এম. এম. সহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
ডিআইএ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালে এসব প্রতিষ্ঠানে সরেজমিন পরিদর্শন ও নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তদন্তে বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী উলিপুর উপজেলার ৪টি, নাগেশ্বরী উপজেলার ৬টি, রাজারহাট উপজেলার ৩টি এবং রৌমারী ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
উলিপুর উপজেলার প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— আপুয়ার খাতা আমিনা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়, গোড়াই পাঁচপীর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, বজরা দারুল উলুম সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা এবং বালাচর নাছিরিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসা।
নাগেশ্বরী উপজেলার গাগলা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, নন্দনপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, নাগেশ্বরী মহিলা ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়, বেরুবাড়ী বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, রায়গঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এবং হাসনাবাদ আদর্শ জনতা বিদ্যাবিতান উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম রয়েছে তালিকায়।
রাজারহাট উপজেলার ডাংরারহাট আজিজিয়া আলিম মাদরাসা, বড়ঘাট গমির উদ্দিন দাখিল মাদরাসা ও সুখদেব ফাজিল মাদরাসা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এছাড়া রৌমারী উপজেলার যাদুরচর উচ্চ বিদ্যালয় এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার আমিন উদ্দিন আহমেদ দ্বিমুখী দাখিল মাদরাসা ও টগরাইহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নামও প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে জাল বা ভুয়া সনদ ব্যবহার, অগ্রহণযোগ্য শিক্ষাগত সনদ দাখিল, অবৈধ নিয়োগ প্রদান, নিয়োগবিধি লঙ্ঘন, বেতন-ভাতা উত্তোলনে অনিয়ম, ভ্যাট-আইটি সংক্রান্ত অসঙ্গতি এবং বিভিন্ন খাতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠে এসেছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে জমি সংক্রান্ত অনিয়ম ও অবৈধ দখলের বিষয়ও চিহ্নিত হয়েছে।
ডিআইএ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অনিয়মের কারণে প্রায় ৮৯ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার ৬০৭ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি বেহাত হওয়া ১৭৬ দশমিক ৫২৩ একর জমি উদ্ধার করে সরকারের অনুকূলে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
ডিআইএ জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং জাল সনদ যাচাইয়ের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
৯৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন অধিদপ্তরের নিজস্ব ওয়েবসাইটের নোটিশ বোর্ডে প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।











