চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ২৪ আগস্ট ২০২৫ , ৫:০০ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
তিস্তা নদীর উপর নির্মিত ‘মাওলানা ভাসানী সেতু’ দিয়ে কুড়িগ্রাম-গাইবান্ধা’র সড়ক পথে যুক্ত হচ্ছে না ঢাকার বাস। এ ধরণের বাস চলাচলের জন্য সড়কপথ উপযোগী না হওয়ায় আপাতত ঢাকা পথের বাস চালু করা হচ্ছে না। এর ফলে প্রায় ৮০ কি.মি ঘুরপথে ঢাকা যেতে হচ্ছে এ অঞ্চলের যাত্রী সাধারণকে।
কুড়িগ্রাম জেলা মটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ কপিল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে সেতু উদ্বোধনের পরদিন বৃহষ্পতিবার (২১) আগস্ট থেকে কুড়িগ্রাম-গাইবান্ধা রুটে লোকাল যুক্ত করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা মটর মালিক সমিতি সুত্রে জানাগেছে, কুড়িগ্রাম-গাইবান্ধা সড়ক পথে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত আধা ঘন্টা পর পর লোকাল বাস চলাচল করছে। বাস ভাড়া কুড়িগ্রাম থেকে গাইবান্ধা ১০০ টাকা, কুড়িগ্রাম থেকে মাওলানা ভাসানী সেতু ৬০ টাকা, কুড়িগ্রাম থেকে পলাশবাড়ী ১৩০ টাকা, উলিপুর থেকে গাইবান্ধা ৭০ টাকা, চিলমারী থেকে গাইবান্ধা ৫০ টাকা, চিলমারী থেকে পলাশবাড়ী ৮০ টাকা, কুড়িগ্রাম থেকে দূর্গাপুর ১৫ টাকা, কুড়িগ্রাম থেকে উলিপুর ৩০ টাকা ও কুড়িগ্রাম থেকে চিলমারী ৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা মটর মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব কপিল উদ্দিন বলেন, ‘কুড়িগ্রাম-গাইবান্ধা সড়ক পথের নির্ধারিত স্পট থেকে যাত্রী ওঠানামা, নির্ধারিত ভাড়া ও উন্নত যাত্রী সেবার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আমরা। সড়কটি চালু হলেও বেশ কিছু সমস্যা থেকে গেছে।’
তিনি আরো জানান ‘কুড়িগ্রাম-গাইবান্ধা রুটে বাস চালু করা হয়েছে। গাইবান্ধা অংশে একটি বাজারের ভেতর দিয়ে গেছে সড়ক। এ সড়কটি সংকীর্ণ, বড় বাস চলাচলের উপযোগী নয়। তাই আপাতত মটর মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ পথে ঢাকার বাসকে যুক্ত করা হচ্ছে না।’
এদিকে সেতু উদ্বোধন হলেও চিলমারী অংশে সেতু থেকে মাটিকাটা মোড় পর্যন্ত সংযোগ সড়কের ৭.৩ কি.মি মধ্যে প্রায় ৬ কি.মি রাস্তার কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়ে গেছে। এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম এলজিইডি’র কর্মকর্তাদের দুষছেন স্থানীয়রা।
থানাহাট কলেজ মোড় এলাকার আব্দুর রহিম দুলাল বলেন, ‘সেতুর প্রকল্পের পুরো কাজই গাইবান্ধা অংশে। মাত্র ৬ কিলোমিটারের মতো রাস্তার কাজ করছে কুড়িগ্রাম এলজিইডি। এ অংশটুকু চিলমারীর সিমান্ত শহরের মোড় থেকে মাটিকাটা মোড় পর্যন্ত। এ সামান্য রাস্তার কাজটুকু শেষ করতে পারেনি এলজিইডির কর্তা ব্যক্তিরা।’
শরীফের হাট এলাকার আমিনুল ইসলাম বীর বলেন ‘ সংশিষ্ট দপ্তরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা দরকার। তাদের উদাসীনতায় সংযোগ সড়কের কাজ আজও শেষ হয়নি।’
এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, ‘কাজ চলমান রয়েছে, শীঘ্রই রাস্তার কাজ শেষ হবে।’
উল্লেখ্য গত বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে চিলমারী-সুন্দরগঞ্জের হরিপুর তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত এ সেতুর উদ্বোধন করেন অন্তবতী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ১৪৯০ মিটার পিসি গার্ডার এ সেতু নির্মাণে ব্যয় হয় ৯’শ ২৫ কোটি টাকা।











