কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ৭ জানুয়ারি ২০২৬ , ১:৫৪ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শীত ও ঠান্ডায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা শীতজনিত নানা রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে বেড়েছে কাঁপুনি। গত কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছিল না। আজ বুধবার মাঝে মাঝে সূর্যের দেখা মিললেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, বিশেষ করে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়নের চর রাউলিয়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন,
“খড়ের ঘরে থাকি। দিন-রাত বাতাস হুহু করে ঢোকে। বউ–বাচ্চা নিয়ে খুব কষ্টে আছি।”
নাগেশ্বরী উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল হক পেশায় রিকশাচালক। তিনি বলেন,“সকালে ঠান্ডার কারণে রিকশা নিয়ে বের হতে পারি না। এতে সংসার চরম অভাবে চলছে।”
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কলেজ মোড় এলাকার পান ব্যবসায়ী দুলু মিয়া বলেন,“ঠান্ডার কারণে পান বিক্রি কমে গেছে। খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি।”
এদিকে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ২ নম্বর কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের মিনহাজুল ইসলাম বলেন,
“এই ঠান্ডায় চায়ের দোকানে কাজ করতে খুব কষ্ট হয়।”
শীতজনিত রোগে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা
চলতি শীতে গত কয়েক দিন ধরে জেলায় সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, আমাশয় ও ডায়রিয়াজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস বলেন,“জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অনেকেই হাসপাতালে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।”
কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান,“আজ বুধবার সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ।”
কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান,“জেলার ৯টি উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া জরুরি সহায়তার জন্য ৪০ লাখ টাকা নগদ মজুদ আছে।”











