আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম: ২৩ মার্চ ২০২৬ , ৬:৫৯ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। জেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মধ্যেও সীমিত সরবরাহ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে ফিলিং স্টেশন ও বিক্রয় কেন্দ্রগুলো।
জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে জানা গেছে, জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়মিত সরবরাহের কারণে জেলার ২০টি ফিলিং স্টেশনের বেশিরভাগেই তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান—পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি—চাহিদা অনুযায়ী ডিলারদের তেল সরবরাহ করতে পারছে না। ফিলিং স্টেশনগুলোতে ডিজেল কিছুটা পাওয়া গেলেও পেট্রল ও অকটেন প্রায় অনুপস্থিত। জেলার ২০টি পেট্রোল পাম্পে দৈনিক প্রায় ৪ লাখ লিটার চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ নেমে এসেছে মাত্র ৫০ হাজার লিটারের কাছাকাছি।
এদিকে ঈদের ছুটিতে সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে।
কুড়িগ্রামের খলিলগঞ্জের এসএস ফিলিং স্টেশনের পরিচালক জামান কাজল জানান, জেলার মোট চাহিদার চারভাগের একভাগও পূরণ হচ্ছে না। ফলে জ্বালানি সংকট কাটছে না। প্রতিদিনই ক্রেতাদের সঙ্গে পাম্পগুলোতে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
জ্বালানি সংগ্রহের জন্য সকাল থেকেই বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি পাচ্ছেন না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১০০ টাকার বেশি পেট্রল দেওয়া হচ্ছে না, তাও সব স্টেশনে পাওয়া যাচ্ছে না।
মোটরসাইকেল চালক সাইফুল ইসলাম, রাশেদুল ও আকবর আলীসহ অনেকেই জানান, ৪-৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ২০০-৩০০ টাকার বেশি পেট্রল পাওয়া যায় না, তাও প্রতিদিন নয়। এতে তাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কয়েকটি ফিলিং স্টেশন সীমিত পরিসরে পেট্রল ও ডিজেল বিক্রি চালু রাখলেও অধিকাংশই বন্ধ রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার যানবাহন ব্যবসায়ীরা। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় যাত্রীসেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, তার নেতৃত্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম নিয়মিত ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করছে। সার্বিকভাবে কঠোর নজরদারিতে রয়েছে সব বিক্রয়কেন্দ্র। জ্বালানি সংকট নিরসনে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে ক্রেতা-বিক্রেতা সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।











