পরিবেশ

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে কাশফুলের নরম ছোঁয়ায় দর্শনার্থীদের ভিড়

  আতাউর রহমান বিপ্লব, কুড়িগ্রাম: ১৬ অক্টোবর ২০২৫ , ৩:৪৭ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রীষ্মের প্রখর তাপ ও বর্ষার অবিরাম বৃষ্টি শেষে শরৎ এসেছে স্নিগ্ধ রূপে। আর এই ঋতুর আগমনী বার্তা নিয়ে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে দিগন্তজোড়া কাশফুলের শুভ্র সমারোহ মন কেড়েছে দর্শনার্থীদের।

ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ কুড়িগ্রামের ১৬টি নদীর অববাহিকার প্রায় চার থেকে পাঁচ শতাধিক চর-দ্বীপচরে ফুটেছে কাশফুল। এসব চরে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত থেকে শত শত দর্শনার্থী ভিড় করছেন কাশবনের সৌন্দর্য উপভোগে।

দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেউ নৌকায় ঘুরছেন কাশবনের ভেতর, কেউ ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। কেউ বা পরিবার-পরিজন নিয়ে বসে কাটাচ্ছেন প্রশান্তির সময়। সাদা কাশফুলের দোলায় নদীর পাড়জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক অপার্থিব দৃশ্য—যেন দিগন্তজোড়া সাদা চাদর বিছানো।

ধরলা নদীর তীরের জয়স্বরস্বতী চর, জগমন চর, পাংগার চর এলাকায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, প্রতিবছর শরৎকালে এখানে কাশফুল ফোটে। এতে পুরো এলাকা মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। স্থানীয় দর্শনার্থী করিম, পিও ও মুক্তা বলেন, “এখন জেলা ও জেলার বাইরে থেকেও অনেক মানুষ এখানে আসে ছবি তুলতে ও সূর্যাস্ত দেখতে। আমাদের চরগুলো এখন প্রকৃতির সৌন্দর্যের লীলাভূমি হয়ে উঠছে।”

ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, “ধরলা নদীর পশ্চিম পারে শত শত একর জমিতে কাশফুলের বাগানকে ঘিরে প্রতিদিন শত শত পর্যটক আসছেন। ছবি তোলা, ভিডিও করা এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে এটি পর্যটনের সম্ভাবনাময় এলাকা হতে পারে।”

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রফেসর মীর্জা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “কাশফুল পরিবেশবান্ধব উদ্ভিদ। দেশে-বিদেশে এর চাহিদা রয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে কাশফুল চাষ ও সংরক্ষণে উদ্যোগ নিলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিক থেকেও লাভবান হওয়া যাবে।”

প্রকৃতিপ্রেমী দর্শনার্থীদের মতে, শরতের এই সময়ে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের কাশফুলের শুভ্র সৌন্দর্য একবার দেখলে ভুলে থাকা যায় না।