সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ৩:৪৩ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীর মৃত্যুতে সাতক্ষীরায় সর্বদলীয় ছাত্রদের উদ্যোগে গায়েবানা জানাজা ও শহর শিবিরের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে সাতক্ষীরা খুলনার মোড় সংলগ্ন আসিফ চত্ত্বরে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন শহর শিবিরের সাবেক সভাপতি জিয়াউর রহমান। এর পর সেখান থেকে ছাত্র শিবিরের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউমার্কেটে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ পরবর্তী প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন শহর শিবিরের সাবেক সভাপতি ও সাতক্ষীরা শহর জামায়াতের সেক্রেটারী খোরশেদ আলম, শহর শিবির সেক্রেটারী মেহেদী হাসান, সাবেক সভাপতি জিয়াউর রহমান, সমন্বয়ক আরাফাত হোসেন, নাজমুল হোসেন রনি প্রমুখ।
খোরশেদ আলম বলেন,“আমরা যুগে যুগে দেখেছি ফ্যাসিবাদীরা গুপ্তভাবে হত্যা করে। যুগে যুগে যারা ফ্যাসিবাদ, জুলমবাজ এবং কালচারাল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, তখন সন্ত্রাসীরা তাদের হত্যা করার জন্য নীল নকশা করেছে। হাদীকেও সেভাবেই হত্যা করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের পর অনেক জুলাই যোদ্ধা নৈতিকতা বিসর্জন দিলেও আমাদের নেতা হাদী তাঁর নৈতিকতার সর্বোচ্চ স্থান ধরে রেখেছে। সরকার দ্রুত সময়ে মধ্যে যদি হত্যাকারীদের শনাক্ত না করে, তাহলে মসনদে বসে থাকার নৈতিক কোনো অধিকার নেই।”
মেহেদী হাসান বলেন:“জুলাই আন্দোলনে অগ্রভাগে যারা কাজ করেছে, তাদের মধ্যে শরীফ ওসমান হাদী অন্যতম। মধ্যযুগীয় কায়দায় তাঁর মাথায় গুলি চালানো হয়েছে। এই ক্ষতি হয়তো বাংলাদেশ আর কখনো পূরণ করতে পারবে না। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে যারা কাজ করবে, তাদের পিছনে অন্যতম ভূমিকা পালনকারী হিসেবে থাকবে ওসমান হাদী। ওসমান হাদীর জনপ্রিয়তা গ্রাম থেকে শহরে পৌঁছালে একটি পক্ষ তা মেনে নিতে পারেনি। ফ্যাসিবাদী খুনী হাসিনা ও ভারতের যৌথ পরিকল্পনায়, যারা ভারতীয় আধিপত্য কায়েম করতে চায়, তাদের নীলনকশায় তাকে শহীদ করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে হাদীর উপর গুলি চালানো হয়। গুলি তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।





