অপরাধ

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ভিডিও করায় সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিল ঘাট কর্তৃপক্ষ

  স্টাফ রিপোর্টার: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ , ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগের ভিডিও ধারণ করায় এক সাংবাদিকের মোবাইল ফোন জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঘাট কর্তৃপক্ষের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘাট এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছিল। তিনি বলেন,
“টোকেনে যে ভাড়া লেখা আছে, আমি সেটাই দিতে চাই। অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করে। এমনকি টাকা না দিলে আজ আর পারাপার হতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেয়।”
পরে ঘটনাস্থলে যান সাংবাদিক সোহেল রানা স্বপ্ন। অনিয়মের প্রমাণ সংগ্রহের জন্য তিনি ভিডিও ধারণ শুরু করলে ঘাট ইজারাদার পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে শফি আলম নামের এক টিকিট মাস্টার জোরপূর্বক সাংবাদিকের হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন এবং ভিডিও ধারণ বন্ধ করতে হুমকি দেন।
ঘটনার সময় উপস্থিত যাত্রী নাঈম হোসেন বলেন,
“আজ যাত্রী বেশি দেখে ঘাট কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছিল। যাত্রীদের সঙ্গে বাক্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে সাংবাদিক ভিডিও ধারণ করলে তার ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। আমরা প্রতিবাদ করলে ইজারাদার নৌকা ছাড়বে না বলে নানা ধরনের হুমকি দেয়।”
এ সময় আশপাশে থাকা যাত্রীরা প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ধারণকৃত ভিডিওটি দৈনিক কালেরকণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ পেলে মুহূর্তের মধ্যেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওটি প্রকাশের পর জনচাপের মুখে সাংবাদিকের উপস্থিতিতেই যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দিতে বাধ্য হয় ঘাট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। সুযোগ বুঝে তারা যাত্রীদের জিম্মি করে নিয়মিত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে আসছে। এই সিন্ডিকেটের কবল থেকে মুক্তি চান সাধারণ যাত্রীরা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক সোহেল রানা স্বপ্ন বলেন,
“টোকেনের বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি ভিডিও করি। অতিরিক্ত ভাড়া কেন নেওয়া হচ্ছে এবং কোন আইনের বলে এই ভাড়া আদায় করা হচ্ছে জানতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও এমন আচরণ করা হয়েছে। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি হামলা।”
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনরা ব্যাপকভাবে শেয়ার করেন এবং ঘাটকেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি জানান।
এ বিষয়ে ইজারাদার পক্ষের সঙ্গে কথা বললে তারা দাবি করেন,“আমরা কোটি টাকা দিয়ে ঘাট ইজারা নিয়েছি। ভাড়া বেশি হলে যাত্রী যেতে চাইলে যাবে, না চাইলে যাবে না।”
তবে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন বলেন,“বিষয়টি আমি জেনেছি এবং ভিডিও দেখেছি। দ্রুত পোর্ট অফিসারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও যাত্রী অধিকার রক্ষার প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।