রাজনীতি

২৮ কুড়িগ্রাম-৪ আসনে স্বামীর আপিলে স্ত্রীর প্রার্থিতা বাতিল

  স্টাফ রিপোর্টার: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ১১:৩৭ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ

Oplus_131072

কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যতিক্রমী ও আলোচিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী কেএম ফজলুল মন্ডলের আপিলের পর তার স্ত্রী, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি সমর্থিত প্রার্থী মোছা. শেফালী বেগমের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে নির্বাচন কমিশন এ সিদ্ধান্ত দেয়। শুনানিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা শেফালী বেগমের মনোনয়নপত্র বৈধ নয় বলে মত দিলে কমিশন তা বাতিল ঘোষণা করে।
এর আগে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিল করেন। মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রথমে দুজনের মনোনয়নই বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে একই সংসদীয় আসনে স্বামী ও স্ত্রী ভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে প্রার্থী হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতি ও ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দেয়।
পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কেএম ফজলুল মন্ডল নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিলে তিনি উল্লেখ করেন, তার স্ত্রী মোছা. শেফালী বেগম সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের পর এখনও তিন বছর পূর্ণ করেননি। প্রচলিত নির্বাচন বিধি অনুযায়ী, সরকারি চাকরি থেকে অবসর বা পদত্যাগের তিন বছরের মধ্যে কেউ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। এই যুক্তির ভিত্তিতেই তিনি স্ত্রীর মনোনয়ন বাতিলের আবেদন করেন।
আপিল শুনানিতে বিষয়টি পর্যালোচনা শেষে নির্বাচন কমিশন শেফালী বেগমের মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে কেএম ফজলুল মন্ডল দাবি করেছেন, তাদের দাম্পত্য জীবন বর্তমানে বিচ্ছেদমূলক পর্যায়ে রয়েছে। তবে শেফালী বেগম এ দাবির সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন,“আইনি দৃষ্টিতে কেএম ফজলুল মন্ডল এখনও আমার স্বামী। আমাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য থাকলেও বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে এখনো বহাল রয়েছে।” তাছাড়া নির্বাচন কমিশন আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে কি-না এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে কুড়িগ্রাম-৪ আসনে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং শেষ পর্যন্ত আপিলের মাধ্যমে প্রার্থিতা বাতিলের ঘটনা নির্বাচনী রাজনীতিতে বিরল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন শেফালী বেগম এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পরবর্তী কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবেন কি না, সে দিকেই নজর রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ ভোটারদের।