ডেস্ক রিপোর্ট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ , ১:১১ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দুই স্বাস্থ্যকর্মীর অনুপস্থিতির কারণে ঘুঘুমারী ও টাপুরচর কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ হয়ে আছে। ফলে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক বছরে এসব ক্লিনিক থেকে একদিনও তারা কোনো ওষুধ পাননি।
পলাতক দুই স্বাস্থ্যকর্মী হলেন চর শৌলমারী ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি মামুন হাসান এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বন্দবেড় ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ মন্ডল। তারা দুজনই ২০১০ সালে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) পদে যোগ দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তারা নিয়মিত অফিস না করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সময় দিতেন। বরাদ্দকৃত সরকারি ওষুধ আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া এবং খোলাবাজারে বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
টাপুরচর গ্রামের শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, “আব্দুল ওয়াদুদ মন্ডল ছাত্রলীগের সভাপতি থাকায় এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতেন। কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পেত না। চিকিৎসাসেবার জন্য ফোন দিলেও তিনি ধরতেন না।
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর মামুন হাসান রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে আব্দুল ওয়াদুদ মন্ডল তখন থেকেই লাপাত্তা। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এলাকার মানুষ দ্রুত বিকল্প স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সরকারি উদ্যোগে চালু হওয়া কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সচল না থাকলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী সম্পূর্ণভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে।
রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, “স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে এখনো তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ হয়নি।”











