ডেস্ক রিপোর্ট : ৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:৪৬ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
বিদায়ী মার্চ মাসে দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ৬১৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬১৯ জন নিহত এবং ১,৫৪৮ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৪৫টি দুর্ঘটনায় ৫৪ জন নিহত ও ২২৯ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত, ১৯ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৬৭০টি দুর্ঘটনায় ৬৮২ জন নিহত এবং ১,৭৯৬ জন আহত হয়েছেন। এ সময়ে ২২২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩৭ জন নিহত এবং ১৯৭ জন আহত হয়েছেন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬.০৩ শতাংশ, নিহতের ৩৮.৬১ শতাংশ এবং আহতের ১২.৭২ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১৬০টি দুর্ঘটনায় ১৭০ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে বরিশাল বিভাগে, যেখানে ৩০টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছেন।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সংগঠনটির মতে, প্রকৃত দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায় না।
সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন ৯ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৫৭ জন চালক, ৯০ জন পথচারী, ১৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ৬৮ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক, ৭৮ জন নারী, ৮৬ জন শিশু, ৩ জন চিকিৎসক, ৪ জন সাংবাদিক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১ জন আইনজীবী, ৩ জন প্রকৌশলী এবং ১৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৫ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন আনসার সদস্য, ১ জন বিজিবি সদস্য, ১ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য, ১ জন চিকিৎসক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১৫০ জন চালক, ৮৪ জন পথচারী, ৭৪ জন নারী, ৮২ জন শিশু, ৬৭ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক, ১৪ জন শিক্ষক, ১ জন আইনজীবী, ৩ জন প্রকৌশলী এবং ৯ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী।
এ সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িত ৯৭৫টি যানবাহনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৬.৭৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১.৬৪ শতাংশ ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৩.৮৪ শতাংশ বাস, ১৪.৫৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৭.২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৮.৪১ শতাংশ নসিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৭.৪৮ শতাংশ কার, জিপ ও মাইক্রোবাস।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩৭.৬৬ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২.৪৬ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কা, ২১.৪২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়া এবং বাকিগুলো বিভিন্ন কারণে ঘটেছে। এছাড়া ০.৩২ শতাংশ ক্ষেত্রে চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ০.৯৭ শতাংশ ক্ষেত্রে ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষ হয়েছে।
স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৪০.৯০ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০.০৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ২২.০৭ শতাংশ ফিডার সড়কে ঘটেছে। এছাড়া ৫.৫১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঢাকা মহানগরীতে, ০.৪৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ০.৯৭ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে ঘটেছে।
আজ (০৪ এপ্রিল) সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।





