রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ , ৮:৩৯ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকভিত্তিক কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের অংশগ্রহণে এক মিলনমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ফলুয়ার চর নৌকা ঘাটে রৌমারী কন্টেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাসোসিয়েশন (আরসিসিএ)-এর উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়।
এই মিলনমেলায় রৌমারী উপজেলার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী শেরপুর জেলা ও রাজিবপুর উপজেলা থেকে আগত কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা অংশ নেন। নদীতীরের খোলা পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় দর্শকদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য, যা পুরো আয়োজনকে উৎসবমুখর করে তোলে।
অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। তারা রৌমারীর যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা ও সম্ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরতে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের আরও দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
বক্তারা আরও বলেন, পরিকল্পিত ও মানসম্মত কন্টেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেশব্যাপী তুলে ধরা সম্ভব। এতে একদিকে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের পরিচিতি ও দক্ষতা বাড়বে, অন্যদিকে পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চলের উন্নয়ন ভাবনাও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসবে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর জানান, তারা তাদের কন্টেন্ট থেকে অর্জিত আয়ের একটি অংশ নিয়মিতভাবে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় ব্যয় করে থাকেন। সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তারা।
এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুর আলম খান হিরো, সহকারী পরিচালক সিএসডিকে হারুনর রশিদ শাকিলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
রৌমারী কন্টেন্ট ক্রিয়েটর অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা বলেন, এই মিলনমেলার মূল উদ্দেশ্য হলো কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি, সহযোগিতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ জোরদার করা। তারা জানান, রৌমারীর জীবন, সংগ্রাম ও সম্ভাবনার গল্পগুলো সৃজনশীলভাবে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য।
মিলনমেলার আয়োজক মো. সাদ্দাম হোসাইন, মো. নয়ন আহমেদ, মো. মাইদুল আহমেদ অভি, এস কে সুজন, বাবুল হোসেন, এল এক্স বাবু, মিলন আহমেদ ও বুলেট সুজন বলেন, ভবিষ্যতে নিয়মিত এমন আয়োজনের মাধ্যমে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সমাজমুখী ও ইতিবাচক কন্টেন্ট তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া হবে।
আলোচনা সভা শেষে বাউল গামছা মনিরের সঞ্চালনায় স্থানীয় ও আগত শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মাঝে বাড়তি আনন্দ যোগ করে।











