জাহিদুর রহমান উজ্জ্বল, মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ৫:৩১ অপরাহ্ণ প্রিন্ট সংস্করণ
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ২নং চর এলাকায় চাঁদার দাবিতে তিন কৃষকের বৈধ সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় দেড় শতাধিক বিঘা বোরো ধানের জমি পানির অভাবে শুকিয়ে ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ৫নং চরের সেচ মালিক ও কৃষকরা হলেন—আ. রাজ্জাক (৫৫), বাবুল (৪০) ও আসাবুদ্দিন (৪০)। তারা জানান, তাদের জমি ২নং চর এলাকার সীমানায় হওয়ায় চার বছর আগে সেখানকার বিদ্যুতের খুঁটি থেকে প্রতিজন ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে তিনটি সেচ লাইনের মিটার সংযোগ নেন। এরপর থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছেন।
তাদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে হঠাৎ করে ২নং চরের বেনজির (২৫), বিদ্যুৎ মিস্ত্রি রিপন (২৫), শামা শেখ (৪০), হাজুবর (২৫) ও ফজলু (৩০) তাদের কাছে প্রত্যেকের নিকট ৫০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করেন। দাবি করা টাকা না দেওয়ায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে তারাবিহ নামাজের পর ১৫–২০ জন লোক এসে সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
কৃষকরা জানান, শত অনুরোধ সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত সংযোগ পুনরায় দেওয়া হয়নি। ফলে পানির অভাবে বোরো ধানের ক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে।
গ্রামের কৃষক ইদ্রিস আলী (৪৫) ও আ. জব্বার (৭০) বলেন, “ফসল রক্ষার জন্য আমরা মসজিদের মুসল্লিদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করি। কিন্তু অভিযুক্তরা উল্টো আমাদের মারধর করে। তারা বলছে, এক গ্রামের বিদ্যুতের খুঁটি থেকে আরেক গ্রামে (৫নং চর) সংযোগ দেওয়া যাবে না।”
এ বিষয়ে জামালপুর পিডিবি বিদ্যুৎ অফিসের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব আজাদ রুবেল বলেন, “বৈধ গ্রাহকের সংযোগ অন্য কেউ বিচ্ছিন্ন করতে পারে না। এটি আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরেজমিনে ২নং চরে গিয়ে অভিযুক্তদের সবাইকে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযুক্ত বেনজির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমাদের গ্রামের বিদ্যুৎ অন্যদের দেওয়া হবে না।” তবে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ ওবায়দুর রহমান বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বাবুল হাসানের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বর্তমানে পানির অভাবে শতাধিক বিঘা জমির বোরো ধান চরম ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।











